মঙ্গলে পাওয়া গেল বিশাল হ্রদ

শিল্পীর টানে MARSIS যেভাবে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে মঙ্গলের ছবি তুলেছে।
Credits: USGS Astrogeology Science Center, Arizona State University, ESA, INAF

   এই প্রথম মঙ্গল গ্রহে তরল জলের সন্ধান পাওয়া গেল। বিজ্ঞানীরা এক প্রকার নিশ্চিত যে এটাই প্রথম মঙ্গলে তরল জলের আবিষ্কার। এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মঙ্গল থেকে যা ছবি পেয়েছে তাতে প্রমাণ হয় যে মঙ্গলে একসময় জলের স্রোত ছিল। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সমস্ত জলে হারিয়ে যায় মহাশূন্যে। বিজ্ঞানীর অনুমান করেন সম্ভবত এটা প্রবল সৌর ঝড়ের জন্য হতে পারে।

   গত 25 শে জুলাই একদল ইতালীয় বিজ্ঞানী MARSIS থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লষণ করে সায়েন্স জার্নালে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন যেখানে দাবী করেছেন তারা জলের মঙ্গলের মাটির নীচে বিশাল জলের ভান্ডার পেয়েছেন।

কারা সন্ধান করলেন?

    Mars Advanced Radar for Subsurface and Ionosphere Sounding তথা MARSIS হল European Space Agency এর তৈরি মঙ্গলযান যান 2005 সালের 4ই মে পাঠানো হয়। এটিকে তৈরি করা হয়েছে মঙ্গলের নীচে কী রয়েছে যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। অনেকটা র‍্যাডার দিয়ে প্লেন খোঁজার মত। MARSIS থেকে নির্গত রেডিও তরঙ্গ মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে কীভাবে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসছে তা পর্যবেক্ষণ করে মঙ্গলদেশে কী লুকিয়ে রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় ।

   এর আগে মঙ্গলের দক্ষিণ গোলার্ধে বরফের সন্ধান পাওয়া গেছিল। তবে MARSIS এবার অন্যকিছু পায়। দেখা যায় যে এর 1.5 কিলোমিটার নীচের থেকে রেডিও তরঙ্গ এমন কিছু থেকে প্রতিফলিত হয়ে আসছে যেটা অনেকটা উজ্জ্বল।

   বিজ্ঞানীরা অনেক ধরণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্তে এলেন যে যদি মাটির নীচে কঠিন বরফ ও তরলের সংযোগস্থল থাকে তাহলেই প্রাপ্ত রেডিও তরঙ্গের গঠনের সাথে মিলে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে 20 কিলোমিটারের বিশাল এলাকা জুড়ে জলের ভান্ডার রয়েছে। মঙ্গলে এত বড় হ্রদ খুঁজে পাওয়া সত্যি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

গোলাকার অংশের ভিতরের নীল জায়গাটি প্রায় 20 km চওড়া।
Credits: USGS Astrogeology Science Center, Arizona State University, ESA, INAF

কীভাবে সম্ভব?

   এখানে একটা ভাবনা চলে আসে; মঙ্গলের দুই মেরুতে তো উষ্ণতা প্রায় -680C । তাহলে এত চরম পরিবেশে তরল জল কিভাবে থাকতে পারে!

   অনুমান করা হচ্ছে, সেই জলে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি রয়েছে। যার জন্য জলের হিমাঙ্ক এতটাই কমে গেছে যে এত নিম্ন উষ্ণতাতেও জল তরল রূপে আছে।

 

   আসা করা হচ্ছে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে প্র্যোজনীয় জল এই সব অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে।

ফেসবুকে সঙ্গে থাকুন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *