মেঘের গঠন ও প্রকারভেদ

   জলবায়ুর একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল মেঘ। কোনো অঞ্চলের জলবায়ু কেমন হবে তার ওপর মেঘের প্রভাব অনেক। কিন্তু এই মেঘ তৈরি হয়ই বা কীভাবে? এতো বড় মেঘের ভাসে থাকার কারণ কী?

   প্রথমে মেঘ তৈরি হবার কারণ জানা যাক।

   আমরা জানি মেঘ তৈরির প্রধান উপাদান হল জল। সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী, নালা, পুকুর ইত্যাদি  থেকে জল বাষ্পে পরিণত হয়। এমনকি বাষ্পমোচনের ফলেও জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। জলীয় বাষ্প কিন্তু চোখে দেখা যায় না। তাই এই মুহুর্তে আমাদের আশেপাশে অসংখ্য জলীয় বাষ্পের কণা থাকলেও তা বোঝা মুশকিল। যাই হোক, জলীয় বাষ্প যেহেতু বাতাসের চেয়ে হালকা তাই এটি সহজে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এবারে জলীয় বাষ্প শীতল বায়ুর প্রভাবে তাপ বিকিরণ করতে থাকে এবং শুরু হয় ঘনীভবন। ঘনীভবন হল বাষ্পীভবনের উল্টোটা। এই ভাবে উৎপন্ন ছোটো ছোটো জলকণা বাতাসে অবস্থিত ধূলা, রেণু, ধোঁয়া, লবণের কণা ইত্যাদির সাথে যুক্ত হয়ে ঘুরে বেরায়। এই কণাগুলোকে ঘনীভূত নিউক্লিয়াস (Condensation neuclei) বলা হয়। একটি মজার কথা হল যে Condensation neuclei এর মধ্যে নিউক্লিয়াসের মধ্যে মাঝে মাঝে বাতাসে ভাসমান ব্যাকটেরিয়াও দেখতে পাওয়া যায়। গড় হিসাবে দেখা যায় Condensation neuclei এর মধ্যে 20% ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই নিউক্লিয়াসগুলি ক্রমাগত একত্রিত হয়ে অবশেষে মেঘের সৃষ্টি করে।

  এবার বিভিন্ন ধরনের মেঘ সম্পর্কে জানা যাক।

   সিরাস (Cirrus)- হালকা পালকের মত দেখতে এই মেঘগুলি। পরিষ্কার আবহাওয়াতে এদের সাধারণত দেখতে পাওয়া যায়। তবে যদি এরা একত্রিত হওয়া শুরু করে তাহলে আবহাওয়া পালটে যেতে পারে।

 

সিরস্ট্র্যাটাস (Cirrostratus) – পাতলা চাদরের মত দেখতে। বরফ কণার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যদি এর ওপর সূর্য অবস্থান করে তাহলে সূর্যের চারপাশে একটি বলয় তৈরি হয়।

 

সিরোকিউমুলাস(Cirrocumulus)- 5 থেকে 12 কিলোমিটারের মধ্যে এই মেঘ অবস্থান করতে পারে। জলের কেলাসের উপস্থিতির জন্য এটি খুব ঠান্ডা হয়ে থাকে।

 

অল্টোকিউমুলাস (Altocumulus)- ২ কিলোমিটার থেকে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে এই মেঘ অবস্থান করে। সিরোকিউমুলাস থেকে এটি আকারে কিছুটা বড় ও ঘন হয়ে থাকে।

 

অল্টোস্ট্র্যাটাস (Altostratus)-  এর রঙ ধূসর থেকে নীল হতে পারে। একটু ঘন প্রকৃতির হওয়ায় সূর্যকে আবছা দেখায়।

 

স্ট্রাটোকিউমুলাস (stratocumulus)- 500 মিটার থেকে 2 কিলোমিটারের মধ্যে এই মেঘগুলি অবস্থান করে। দেখতে অনেকটা স্তূপাকৃতির। দুর্বল পরিচলন স্রোতের জন্য এই মেঘ তৈরি হয়।

 

স্ট্র্যাটাস (Stratus)- নিম্ন উচ্চতায় থাকা এই মেঘ ধূসর রঙের হয়ে থাকে। এটি তৈরি হয় উর্ধ্বমুখী তাপীয় প্রবাহের জন্য।

 

নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus)- ধূসর রঙের এই মেঘের তেমন কোনো আকার নেই। নিম্ন উচ্চতার এই মেঘে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ জন্য একটানা বৃষ্টি হতে পারে।

 

কিউমুলাস (Cumulus)- বড় আকারের মেঘ। নীচের দিকটা সমতল ও কিছুটা কালো হয়ে থাকে এবং ওপরের অংশ কিছুটা চূড়ার মত হয়ে থাকে।

 

কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus)- বিশাল আকারের মেঘ। ভূপৃষ্ঠ থেকে 600 মিটার উপরের থেকে ১২০০০ মিটার পর্যন্ত এর বিস্তার হতে পারে। এই মেঘের জন্য বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ফেসবুকে সঙ্গে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *