ব্লাড মুন: ২৭শে জুলাই শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ

   এই জুলাই মাসের ২৭ তারিখ ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। ওই দিন হবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

   চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ভারতীয় সময় রাত ১১টা ৫৪ তে এবং রাত ৩টা ৪৯ মিনিটে শেষ হবে। যার মধ্যে রাত ২ টা ৪৩ পর্যন্ত থাকবে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ।

   এবার একটু চন্দ্রগ্রহণের বিজ্ঞানটা জানা যাক। আমরা জানি, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে যখন পৃথিবী অবস্থান করে এবং যখন এরা একই সরলরেখায় থাকে তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পরলে চাঁদকে দেখা যায় না। এর ফলে পূর্ণিমার দিনেও চাঁদকে কিছুক্ষণের জন্য দেখতে পাওয়া যায় না। যাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে।

পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পরলে চন্দ্রগ্রহণ হয়

   এবারের গ্রহণ দীর্ঘতম হবার কারণ কী?

পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের যে কক্ষপথ তা কিন্তু বৃত্তাকার নয় বরং উপবৃত্তাকার। তাই  চাঁদ কাখনও পৃথিবীর কাছে আসে আবার দূরে যায়। এই গ্রহণে চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব সর্বাধিক হওয়ায় চাঁদ; পৃথিবীর ছায়াকে বেশি সময় ধরে অতিক্রম করবে।

    এবারের গ্রহণের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল; পূর্ণগ্রহণের পর চাঁদকে লাল রঙের দেখাবে। যাকে ব্লাড মুন বলে।

এর কারণটা কী? 

এটা জানতে হলে চাঁদের মাটিতে থাকলে ভাল হত। যাওয়াতো এখন সম্ভব নয়। তাই আমাদের কল্পনার মহাকাশ যানে পারি দিতে হবে চাঁদে। এই গ্রহণে চাঁদের মাটিতে থাকলে আমরা সূর্যকে অনেকটা বলয় আকৃতির দেখতে পাব। অর্থাৎ সূর্যের থেকে আগত কিছু রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ভেদ করে আসবে। আর এতেই আসল কান্ডটা ঘটে যায়।

   দৃশ্যমান সাতটি আলোর মধ্যে নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এটি বেশি বিক্ষিপ্ত হয় (Rayleigh বিক্ষেপণ নীতি : বিক্ষেপণমাত্রা \(\propto\,\frac{1}{\lambda^4}\) ) । যার জন্য আমরা আকাশ নীল দেখি। কম বিক্ষিপ্ত হওয়া লাল রশ্মি চাঁদের পৃষ্ঠে পৌছায় এবং সেখান থেকে আরার প্রতিফলিত হয়ে আবার আমাদের কাছে আসে। যার জন্য চাঁদকে এবার লাল দেখাবে।

ব্লাড-মুনের কারণ

   তাই সবাই তৈরি থাকুন এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *